আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, বিরোধী দলগুলো নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলো এখন নতুন উদ্যোমে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। মামলা, গ্রেফতার এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধার ভয়ে এখন তারা আর সংকুচিত নয়।
বিএনপি বর্তমানে দলের সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠনের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। তারা আগামী নির্বাচনের জন্য নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। দলের স্থায়ী কমিটিতে পরিবর্তন এসেছে, কারাবন্দী নেতারা মুক্তি পাচ্ছেন, এবং মামলা প্রত্যাহারের প্রস্তুতিও চলছে। বিএনপি এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের জন্য 'যৌক্তিক সময়' চাচ্ছে। তারা নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর সংস্কার, এবং সাবেক সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী তাদের জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে নতুনভাবে কাজ করছে। তারা ছাত্র আন্দোলনে আহত-নিহতদের আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংলাপ চালাচ্ছে, এবং পূর্বের যুগপৎ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করছে। জামায়াত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সমাধান চায়, এবং এই ব্যাপারে তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা সাইফুল হক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য একটি স্পষ্ট রূপরেখা চান। তিনি মনে করেন, সরকার কোন সংস্কারগুলোতে হাত দেবে, কতদিন সময় লাগবে—এসব বিষয়ে জনগণকে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া উচিত। রাষ্ট্রীয় সংস্কার শেষে, তার দল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যদিও তারা এখনও ঠিক করেনি নির্বাচনে বিএনপি বা অন্য কোনো দলের সঙ্গে জোট করবে কিনা।
এভাবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি এবং জামায়াত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন ও সংস্কারের দাবি জানালেও, তারা সেই সরকারের কার্যক্রমের রূপরেখা এবং পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে জানতে আগ্রহী।

Post a Comment